মিরাসের মাসয়ালা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর চমৎকার সিদ্ধান্ত জরুরি কিছু বিষয় পড়ুন।
ছেলেদের বর্তমানে নাতিরা মিরাস থেকে বঞ্চিত হওয়াটা ফারায়েজের একটি প্রসিদ্ধ মাসয়ালা। আর এ শাখাগত বিষয়টি ফারায়েজের প্রসিদ্ধ মূলনীতি 'মৃত ব্যক্তির সম্পদের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে তার নিকটাত্মীয়রা অগ্রাধিকার পাবে' - নির্গত হয়েছে। এই নীতির আলোকে বাবার উপস্থিতিতে দাদা বঞ্চিত হয়, ভাইয়ের বর্তমানে অন্য ভাইয়ের সন্তানেরা বঞ্চিত হয়। নাতিদের বিষয়টি নিয়ে অনেক লোক ইসলামি শিক্ষার সমালোচনা করতে গিয়ে বলে, ' এটা কেমন ইনসাফ হলো! ছেলেরা উত্তরাধিকার সম্পত্তি পেলো, অথচ নাতি - নাতনি যারা সাধারনত দুর্বল -অসহায় হয়ে থাকে তারা বঞ্চিত রয়ে যায়।
এই আপত্তিটা মূলত মুসলমানদের গলদ কর্মপন্থার কারনে উত্থাপিত হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা তো সব দিক থেকেই পরিপূর্ণ। কিন্তু মুসলিমরা এগুলোর ওপর সঠিকভাে আমল না করলে এর চিকিৎসা কি?।
ইসলাম এক তৃতীয়াংশ সম্পদে মৃত ব্যক্তিকে অসিয়তের অধিকার দিয়েছে। যাতে করে সে এমন আকস্মিক প্রয়োজনে তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। দাদার জন্য উচিৎ হলো, নাতি -নাতনিদের উদ্দেশ্যে প্রথম দফাতেই এক তৃতীয়াংশ থেকে অসিয়ত করে ফেলা। আর প্রয়োজনের সময় তাদের জন্য ছেলেদের অংশের চেয়ে বেশিও অসিয়ত করা যাবে। এখন যদি দাদা টালবাহানা করে বা সম্পদের মহব্বতে অসিয়ত করার সাহস না দেখায় এবং নাতি-নাতনিদের বঞ্চিত করে হঠাৎ মারা যায়, তাহলে এটা ইসলামি শিক্ষার ত্রুটি নয়,বরং এর কারন হলো, দাদার উদাসীনতা।
শরিয়ত নাতি -নাতনিদের অংশ নির্ধারণ না করার কারণ হলো, দাদা যদি নিজের ছেলেদের অংশের চেয়েও বেশী প্রয়োজন বোধ করে, তা যেন নাতিদের দিতে পারে। কাজেই যে ব্যক্তি পালনপুরী রহ. মতো পরিস্থিতির, বিভিন্ন অযুহাত না দেখিয়ে সে যেন নাতি - নাতনিদের জন্য সময়মত অসিয়ত করে দেয়। কারণ জীবনের কোনো ভরসা নেই। আল্লাহ না করুন, অসিয়ত না করে যদি হঠাৎ চলে যায় তাহলে দাদার এই কাজ বাচ্চাদেরকে পেরেশানিতে ফেলার পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার উপর আপত্তি তোলার কারনও হয়ে দাঁড়াবে।
মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর সন্তান মুফতি রশীদ আহমদ রহ. এর আকস্মিক শাহাদাতের ঘটনা সামনে এলে গ্রামের বাড়ি থেকে যখন সব ভই - বোন ও আত্মীয় - স্বজন শোক জানাতে আসে, তখন মুফতী সাহেব রহ. নিজের ছেলে ও ভাই-বোনদের উপস্থিতিতে মরহুমের বাচ্ছাদের জন্য অসিয়ত করলেনঃ আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন আমার ছেলের দুই বাচ্ছাকে আমার সন্তানদের মতই লালন-পালন করে যাবো। আমার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মরহুমের প্রত্যেক বাচ্ছাই আমার একেকজন ছেলের সমান অংশ করে পাবে। কারণ দুই ছেলেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি এক তৃতীয়াংশ থেকেও কম হবে। আর আমার তো এক তৃতীয়াংশে অসিয়ত করারই অধিকার রয়েছে। বংশের সবাই এর সাক্ষী থাকো।
এই অসিয়তের পর অজান্তেই হজরতের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি বলেন 'আল্লাহ তায়ালার লাখ লাখ শোকর আদায় করছি। তিনি আমার এক ছেলেকে নিয়ে গেছেন। এর বদলায় আরও দুটো বাচ্চা দান করেছেন।
বাপ থাকাবস্থায় যদি ছেলে মারা যায় নাতি নাতনি দাদার কোন সম্পত্তি পাবে না। কিন্তু ইসলাম এত সুন্দর ওই দাদার হাতে অনেক অপশন আছে নাতি নাতনিকে অনেক কিছু করার। সন্তান যা পেতো এরচেয়েও বেশী দেওয়ার। মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর উপরোক্ত ঘটনা আমাদের জন্য জ্বলন্ত দৃষ্টন্ত। ঠকানোর মত পথ অনেক খোঁজে জিতানোর মত পথও অনেক আছে।


0 Comments